দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নগদ প্রণোদনা বিতরণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার লক্ষ্যে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করেছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে রপ্তানি প্রণোদনা বাবদ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়ের জন্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে অফিসিয়াল ডেবিট অথরিটি জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অর্থ ছাড়ের ফলে তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি ও চামড়াজাত পণ্যসহ অনুমোদিত বিভিন্ন খাতের বকেয়া নগদ সহায়তা পরিশোধের পথ সুগম হবে এবং সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
অর্থ বিভাগের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতের বরাদ্দ থেকে এই অর্থ স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়ে সম্প্রতি সিজিএ কার্যালয় থেকে ডেবিট অথরিটি জারি করা হয়। এই বরাদ্দ থেকে মাছ, হিমায়িত চিংড়ি, সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও দেশি বস্ত্রসহ অনুমোদিত বিভিন্ন রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বিশেষ এক শতাংশ নগদ সহায়তা কর্মসূচির অর্থও এই বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে। প্রণোদনার অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের নির্ধারিত শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সহায়তা কর্মসূচি কার্যকর থাকবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ৩০৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৮৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ডলারের, যা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ২২.৭২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং গত মাসে ৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২১.৭০ শতাংশ কমে সাত কোটি ৯৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে হোমটেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি গত বছরের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বেড়ে সাত কোটি ৬৭ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য নির্ধারিত ৪৩টি রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ০.৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে সরকার আগের অর্থবছরের মতোই পণ্যভিত্তিক প্রণোদনার হার বহাল রেখেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা (ক্যাশ ইনসেনটিভ) কার্যক্রমে খাতভিত্তিক কভারেজ ও প্রণোদনার হার গত অর্থবছরের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ৪৩টি রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ০.৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। পণ্যভিত্তিক হার আগের অর্থবছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।















