পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালীন ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মো. আব্দুল ফাত্তাহ ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারে জেলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যে কারাগারের খোরাকি রেশন খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠে। কারাগারের ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর কারা অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সরেজমিনে তদন্ত শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামের তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করা হয়। এ ঘটনায় জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের যোগসাজশ ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলের মাধ্যমে বিল প্রস্তুত ও তা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো। এছাড়া বন্দীর সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়।
আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ৯টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ নিজে ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। কারা অধিদপ্তরের অনুরোধে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ব্যক্তিগত শুনানির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সম্মতিক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত শুনানি নেওয়া হয়।পরবর্তী সময়ে নিয়োগ করা তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

















