ঢাকার সূত্রাপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে পোশাককর্মী মিতুল ইসলামকে (১৮) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি রাহিম আহম্মেদ রাফি (১৯) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ বাড়ৈ আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সূত্রাপুর থানার ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ভেতর মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মিতুল ইসলামকে মার্কেটের ১৪ তলায় ডিএম গার্মেন্টসের সামনে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে তারা কাপড় কাটার কাঁচি ও কাটার ব্যবহার করে মিতুলের বুকে, পিঠে এবং দুই পায়ের উরুর বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। মার্কেটে উপস্থিত লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মিতুলকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মিতুলের বাবা রাসেল সরদার পরের দিন রাফিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ রাফিসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অপর ৯ আসামি হলেন মো. সাগর আহাম্মেদ, মো. রাসেল মিয়া, মো. আরিফ, মো. আশরাফুল, ফারদিন, মো. জুনায়েদ মিয়া, মো. মোস্তাকিম, মো. রোকন মিয়া ও মো. নাজমুল। গত ১৬ আগস্ট রাফির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত এবং অপর ৯ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত মঙ্গলবার সেই ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

















