আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্য কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৬ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে হাফিজ উদ্দিনকে বরখাস্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি ও লেনদেনের সরাসরি অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালীন প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রেখেছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুলাই ‘ডেইলি বাংলাদেশ’-এ ‘স্বাস্থ্যে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষের সিন্ডিকেট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন এবং উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নাছির উদ্দিনের জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে। এরপর ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায়ই পরিবহন কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

















