দেশের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে গত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী গত ৯ই আগস্ট ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ঘাটতির তথ্য তুলে ধরে বলেন, সত্য লুকানোর কোনো সুযোগ নেই। জনগণের সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, কারিগরি সমস্যার সমাধান ও সরকারের নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও দৈনিক ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে বর্তমানে ২৩০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুরো গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও বাসাবাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে, তাই অর্থনীতি রক্ষায় খাতগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।
কারিগরি বিপর্যয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট বর্তমানে ত্রুটির কারণে বন্ধ আছে। আদানির সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১৬০০ মেগাওয়াট পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে দিনে ৯০০ ও রাতে ১১০০ মেগাওয়াট। এছাড়া গত ২১শে জুলাই এলএনজি সরবরাহের দুটি এফএসআরইউ-এর একটি নষ্ট হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, যার প্রভাব বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। তবে এই সংকটের ৮৮ শতাংশ সমাধান হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে এমন পরিস্থিতি হতো না। বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে। এছাড়া রূপটপ সোলার পলিসি এবং এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ কষ্ট আর থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















