জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দায় নির্ধারণের জন্য এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৫(ক)(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার। এছাড়া রেজিস্ট্রার অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (কাউন্সিল শাখা) আলাউদ্দিন মোল্লা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামাল পিংকুকে ২৩ জুলাই পূর্বাহ্ন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১০(ক)(২) ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী সর্বশেষ মূল বেতনের অর্ধেকসহ প্রযোজ্য তদর্থক সাহায্য (অ্যাডহক রিলিফ) ও অন্যান্য ভাতাদি পাবেন বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ওষুধের হিসাবে বড় ধরনের গরমিলের তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে মোট ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধ হিসাবের খাতায় নেই। গায়েব হওয়া এসব ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা বলে জানা গেছে।

















