জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মৌজার দাওয়ারপুকুর এলাকায় গভীর নলকূপের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সেচ সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। নলকূপের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া এবং নলকূপের ঘরে ডাবল তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পানি না পাওয়ায় অনেক জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে, আমনের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং আগাছা দমনেও বিঘ্ন ঘটছে।
শনিবার ২২ আগস্ট সরেজমিনে দেখা যায়, নলকূপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার নেই এবং ঘরে দুটি তালা ঝোলানো রয়েছে। স্থানীয় কৃষক জালাল, ইয়াকুব, জাহাঙ্গীর ও মোতালেব জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের অভাবে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার পাঁচ বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘা জমিতে পানি না থাকায় ধান রোপণ করতে পারেননি। মালিকদের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ কৃষকের ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি দ্রুত নলকূপটি চালুর দাবি জানান।
নলকূপের সাড়ে ১১ আনা মালিকানার দাবিদার মোতালেব হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও দেড় বছর ধরে অপর পক্ষ জবরদখল করে নলকূপটি চালাচ্ছে। তার দাবি, বিদ্যুৎ বিল তার নামে হওয়ায় তিনি নিয়মিত পরিশোধ করছেন কিন্তু অপর পক্ষ বিল দিচ্ছে না। এ কারণে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগের পর ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া হয়েছে যা বর্তমানে থানায় রয়েছে। অপরদিকে, অপর পক্ষের শেয়ার মালিক মতিউরের ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, গত দেড় বছর ধরে তারা দায়িত্ব পালন করছেন এবং মোতালেবের হাতেই বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে। ১২ জুলাই মোতালেব ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। ক্ষেতলাল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কাজী তৌকির আহমেদ জানান, মালিকানা বিরোধের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ একজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বন্ধ করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে সংযোগ দেওয়া হবে। এদিকে, ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মুক্তারুল আলম জানিয়েছেন, মিটার মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রান্সফরমারগুলো থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তিনি উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। দ্রুত।
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৫৩আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৫৭

















