দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ঠিক কোন স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় ভারতে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার অবস্থান সংক্রান্ত আদালতের অনুমতির বিষয়ে যে তথ্য এসেছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। আমিনুল ইসলাম বলেন, যেহেতু শেখ হাসিনা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে আছেন বা তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়, তাই ভারতীয় আদালতের অনুমতির বিষয়টিও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
এ সময় সাংবাদিকরা ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থানের সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়ের কোনো যোগসূত্র আছে কি না জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে শিলংয়ে তিনি খালাস পেয়ে দেশে ফিরে আসেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব অপরাধের দায় আসামিদের নিতেই হবে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

















