প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫৭। দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সঠিক সমন্বয় ঘটাতে হবে। জনগণের সেবা প্রদান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, বরং এর যথার্থ বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্বশীলতা, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে যে নতুন ধারার সূচনা করেছিল, তা বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোগত চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দেশের মানুষ ভোগ করবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনে কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ইটের ব্যবহার কমিয়ে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত ছোট সড়কে ইটের বদলে এসব উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি। ভারী যানবাহন চলাচলের সড়কে আরসিসি বা কার্পেটিং এবং দেশীয় পাথরের ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ সড়কে মাটি ক্ষয়রোধে ‘বিন্যা ঘাস’ ব্যবহারের নির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
















