রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। মিরপুর-১, ১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার যেসব ফুটপাত দীর্ঘদিনের দখল, দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রীর কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল, সেগুলো এখন হাঁটার উপযোগী। তবে এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। অতীতে উচ্ছেদ অভিযানের পর আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে নগরবাসী নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত কেবল সড়কের অংশ নয়, এটি নগরবাসীর নিরাপদ চলাচলের মৌলিক পরিসর। জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ফুটপাত কোনো না কোনোভাবে দখলে রয়েছে, যার ফলে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয় এবং যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান জোরদার করলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কেবল উচ্ছেদ সমাধান নয়। নিয়মিত তদারকি, দখলদারদের পেছনে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা হকার জোন গড়ে তোলা, নাইট মার্কেট চালু করা এবং সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে ব্যবসার সুযোগ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ফুটপাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, গাছ লাগানো, প্রতিবন্ধীবান্ধব নকশা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়; হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও দখলদারদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও বিদ্যুৎ অফিসকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান গত ১০ অক্টোবর জানান, মিরপুরের মতো মোহাম্মদপুরের ফুটপাতও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে আজিমপুরে অভিযান শুরুর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচী এখনো জানা যায়নি। মিরপুর-১০ এলাকায় দখল ঠেকাতে ডিএনসিসি পর্যবেক্ষক দল গঠন করেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, উচ্ছেদ কার্যক্রম যেন কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে এবং মোহাম্মদপুর ও আজিমপুরসহ রাজধানীর সব ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হয়।

















