গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল ভিটিপাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু রিথি আক্তার গত এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। লাকচতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে তার পুরো পরিবার। গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
নিখোঁজ রিথি শাহাদাত হোসেন ও জোনাকি আক্তার দম্পতির মেয়ে। প্রায় নয় বছর আগে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং মা জোনাকি আক্তার অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। এরপর থেকেই দুই বোন স্মৃতি আক্তার (১৩) এবং রিথি তাদের নানা ইসমাইল শেখ ও নানি নুরজাহান বেগমের কাছে বড় হচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, নিখোঁজ হওয়ার দিন দুপুরে হাঁসের বাচ্চা খুঁজে না পাওয়াকে কেন্দ্র করে নানি নুরজাহান বেগম রিথির সঙ্গে কিছুটা রাগারাগি করেছিলেন। পরবর্তীতে রিথি পাশের বাড়ির এক সমবয়সী শিশুকে নিজের অভিমানের কথা জানায় এবং বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও ফিরে না আসায় স্বজনরা আশপাশসহ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেন, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।
মঙ্গলবার দুপুরে রিথিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ৭১ বছর বয়সী নানা ইসমাইল শেখ অসুস্থ শরীর নিয়েও নাতনির ছবি হাতে চেয়ারে বসে আছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, প্রতিদিন তিনি নাতনির সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যান। তিনি বলেন, “এমন কোনো দিন নাই যে আমি তারে খুঁজতে বাইর হইছি না। আজকা অসুস্থ, তাই যাইতে পারতেছি না, কালকা ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে খুঁজতে যাইয়াম।” বিভিন্ন কবিরাজের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি তিনি। রিথির ব্যবহৃত পোশাক ও স্কুলব্যাগ দেখিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।
স্ট্রোকের পর থেকে অসুস্থ নানি নুরজাহান বেগম শারীরিক অক্ষমতার কারণে বাইরে গিয়ে নাতনিকে খুঁজতে পারেন না। তিনি জানান, রিথি তাকে সব কাজে সাহায্য করত এবং সন্তানের মতো করেই তাকে বড় করা হয়েছে। রিথির মামাতো বোন আফরিন আক্তার জানান, পরিবারের সবাই তাকে খুব মিস করছেন এবং রাতে ঘুমের মধ্যেও যেন রিথির কণ্ঠ শুনতে পান। স্থানীয়দের কাছে রিথি শান্ত ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, জিডির ভিত্তিতে পুলিশ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও শিশুটির খোঁজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোথাও রিথির সন্ধান পাওয়া গেলে শ্রীপুর থানায় বা পরিবারের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

















