মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর জায়েদা বেগম (৩১) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়ির উঠান খুঁড়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর হোসেনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত অন্যরা হলেন জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে জায়েদা বেগমের সঙ্গে করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়েছিল। গত ১৮ জুন পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে মিথ্যা দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন।
জায়েদা বেগমের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তের একপর্যায়ে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি মরদেহ পুঁতে রাখার স্থানটি দেখিয়ে দেন। এরপর জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠান খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিডির প্রেক্ষিতে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বর্তমানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

















