দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ যখন সংঘাত ও উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ব্যতিক্রমী চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও ক্যাম্পাসে উভয় সংগঠনেরই সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে এবং প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও বিদ্যমান, তবুও তারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য সংঘাত এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া, জগন্নাথ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও রাবিতে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত।
ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উভয় সংগঠনই এখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানোর ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগে হল দখল নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি। তবে প্রেমঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রক্টর অফিসে রাকসু জিএস আম্মার এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাসের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল শিবিরকে দায়ী করে কর্মসূচি পালন করলেও, উভয় পক্ষই এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, তাদের সংগঠন দায়িত্বশীল আচরণে বিশ্বাসী এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ১৪২ জন নেতাকর্মীর শাহাদাতের পর ছাত্রদলের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তিনি বলেন, কারও উসকানিতে ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নেয় না; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের স্বার্থেই তারা কাজ করছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, রাবি ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা আন্তরিক। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে রাবিতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সচেতন রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তৎপর রয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। প্রশাসন উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো আশঙ্কার কারণ দেখছে না কর্তৃপক্ষ।

















