আকাশজুড়ে ফানুসের আলো আর বাঁকখালী নদীতে বর্ণিল কল্পজাহাজের শোভাযাত্রা—এমন উৎসবমুখর পরিবেশেই পালিত হলো কক্সবাজারের রামুতে প্রবারণা পূর্ণিমা। তবে এবারের আয়োজনে উৎসবের রঙের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ২০১২ সালের বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সোমবার বিকেলে বাঁকখালী নদীর চরে আয়োজিত জাহাজভাসা উৎসবে সাতটি বর্ণিল জাহাজ প্রদর্শন করা হয়, যেগুলোর গায়ে চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি।
উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় সভাপতিত্ব করেন জাহাজভাসা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সুকোমল বড়ুয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এছাড়া কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান কাজল অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ২০১২ সালের রামুতে ঘটে যাওয়া হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করবেন। মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাহাজভাসা উদ্যাপন পরিষদের সমন্বয়ক অর্পন বড়ুয়া জানান, বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের সাথে প্রবারণা পূর্ণিমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গৌতম বুদ্ধের বৈশালী থেকে রাজগৃহে প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিকে ধারণ করেই রামুতে এই কল্প জাহাজভাসা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এর আগে রবিবার সন্ধ্যা থেকে রামুতে শত শত ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন রামু সরকারি কলেজের শিক্ষক মানসি বড়ুয়া ও সমন্বয়ক অর্পন বড়ুয়া। এতে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

















