কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে শনিবার সকালে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ১০ জন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আনসার-ভিডিপি কমান্ডার মো. আজিজ জানান, সকাল সাতটার দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রিসোর্টটি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেন। আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলীর কারণে ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড গরমে কাঠ শুকিয়ে থাকায় আগুনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই রিসোর্টটির প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে প্রায় ২০ শতক জমির ওপর নির্মিত তিনতলা ভবনটির চারপাশের দেয়াল ও খুঁটি ইট-পাথরের হলেও এর কাঠামোতে প্রচুর কাঠের ব্যবহার ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মেঝে এবং সিঁড়িতে লোহার কাঠামোর ওপর কাঠের তক্তা বসানো ছিল। ভবনের পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে তৈরি সম্প্রসারিত রেস্তোরাঁটি ঝাউ ও আকাশমণি গাছের খুঁটির ওপর তৈরি করা হয়েছিল। নিচতলায় ছিল রান্নাঘর, গুদাম ও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা। রিসোর্টের পেছনের সুপারিবাগানের মালিক নুরুল ইসলামের ধারণা, রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে পারে। তিনি জানান, ভবনটিতে বের হওয়ার বিকল্প পথ না থাকায় অতিথিরা নিচে নামতে পারেননি, এমনকি কেউ কেউ বাথরুমে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাননি।
আগুনে রিসোর্টের উত্তর পাশের গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ফ্রিজ ও কাঠের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তারা আগে কখনো দেখেননি। ঘটনার পরপরই আগুনের সূত্রপাত, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিহত ১০ জনই পর্যটক বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এক ভুক্তভোগী জানান, তার তিন বোনের পাঁচ সন্তানসহ নয়জন আত্মীয় বেড়াতে এসে এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আজিজ (৪২)।জালিয়াপালং ইউনিয়নের আনসার-ভিডিপি কমান্ডার আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি দেখতে পেলেও তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
দোকানটির মালিক গিয়াস উদ্দিন (৪০) বলেন, তাঁর চা-কফির দোকানের একটি ফ্রিজ ও কাঠের তৈরি কিছু অংশ পুড়ে গেছে।

















