এরিক নামের এক ছেলের মা ছিলেন এক চোখের অন্ধ। স্কুলের বন্ধুদের সামনে নিজের মায়ের এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এরিক সবসময় বিব্রত বোধ করত। একবার তার মা স্কুলে খাবার নিয়ে গেলে এরিক তাকে সবার সামনে অপমান করে চিৎকার করে বলে, ‘তুমি কেন মরে যাও না? তোমাকে দেখলে আমার লজ্জা লাগে, এক চোখে তোমাকে কী বিশ্রি দেখায়!’ এরিক মনেপ্রাণে চাইত যত দ্রুত সম্ভব পড়াশোনা শেষ করে এই পরিবেশ থেকে দূরে চলে যেতে।
পরবর্তীতে এরিক কঠোর পরিশ্রমে ভালো ফলাফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়। তার সুন্দর সংসার, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যেখানে এক চোখের অন্ধ মায়ের কোনো স্থান ছিল না। এদিকে বৃদ্ধা মা তার নাতিদের একবার দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। অনেক কষ্টে ছেলের বাড়ির ঠিকানা খুঁজে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। কিন্তু দরজায় বৃদ্ধাকে দেখে এরিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে চিৎকার করে বলে, ‘কোন সাহসে এখানে এসেছ? তুমি কি দেখছ না তোমাকে দেখে আমার বাচ্চারা ভয় পাচ্ছে? এখান থেকে চলে যাও।’
অপমানিত ও ব্যথিত মা সেখান থেকে ফিরে যান। কয়েক বছর পর স্কুলের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয় এরিক। অনুষ্ঠান শেষে সে তার মায়ের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবেশীর কাছ থেকে সে জানতে পারে, তার মা দুই বছর আগেই মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি এরিকের জন্য একটি চিঠি রেখে গিয়েছিলেন।
চিঠিতে মা লিখেছিলেন, ‘আমার সোনামনি এরিক, আমি জানি তুমি আমাকে ঘৃণা করো। মা হিসেবে আমি ব্যর্থ, তোমাকে কিছুই দিতে পারিনি। ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় তোমার একটি চোখ মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তুমি সারাজীবন এক চোখ নিয়ে দেখবে—মা হিসেবে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাকি জীবন আমি এক চোখ নিয়ে থাকব। আজ তুমি দুচোখে পৃথিবী দেখতে পারছ, আমার কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই। ভালো থেকো বাবা।’ ইতি—তোমার হতভাগা মা।

















