নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি (প্রতিনিধি) হিসেবে অংশ নিয়ে কারাদণ্ড পাওয়ার ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুয়েল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুন জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে জারিকারক পদে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অন্য এক পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অংশ নিতে গিয়ে ঢাকায় আটক হন জুয়েল রানা। পরে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত (লালবাগ বিভাগ, ডিএমপি) তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. মোকাদ্দেস ইবনে সালাম জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০ জুন জুয়েল রানা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারিকুল ইসলামের কাছ থেকে তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় গত ১৪ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি তার কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে, তিনি প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে গেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, জুয়েল তার কাছ থেকে দুই দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষে না ফেরায় খোঁজ নিতে গেলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে জুয়েল অসুস্থ এবং রংপুর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

















