জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মাছুদা বেগমকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার মাছুদা বেগম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় মাছুদার ভাই বছির উদ্দিনের করা মামলায় পুলিশ রাতেই মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামের মাছুদা বেগমের সঙ্গে মেহেদী হাসানের বিয়ে হয়। তাঁদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময়ে মাছুদার কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বাদী বছির উদ্দিন জানান, তাঁর বোন মাছুদা পৈতৃক সূত্রে ২০ শতক জমি পেয়েছিলেন। সেই জমি বিক্রি করার জন্য ভগ্নিপতি মেহেদী হাসান চাপ দিচ্ছিলেন। পরে তাঁরা এক লাখ টাকা দিলেও মেহেদী আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সেই টাকা না দেওয়ায় এই নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নির্যাতন শুরু করেন মেহেদী। প্লায়ার্স দিয়ে মুখে আঘাত করে তাঁর দুটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়। এরপর গরম কাস্তে দিয়ে তাঁর হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাদীপক্ষ এ ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেছেন।

















