প্রেমের টানে সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এসেছেন ৩৮ বছর বয়সী যুবক সিমোলা মিকা। তিনি উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের শান্তিনা জাহান সিমিকে (২৮) বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর সিমির পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকেও নিজের সন্তান হিসেবে সাদরে গ্রহণ করেছেন তিনি। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ফিনল্যান্ডে বসবাসরত সিমির এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সিমোলা মিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই দুই পরিবারের সম্মতিতে সিমিকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন মিকা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর ফিনল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন তিনি এবং ২ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছান।
দেশে আসার দিনই স্বেচ্ছায় খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন মিকা। এরপর জামালপুর জেলা জজ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে মিকাইল রাখেন। ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে একজন নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নবদম্পতি জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে সুখে সংসার করছেন। আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইল ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে সিমি ও তাঁর সন্তানের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের ফিনল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, শান্তিনা জাহান সিমি দৌলতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিন বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন তিনি। মেয়ের নতুন জীবনের সূচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, কোনো বিদেশি নাগরিকের এলাকায় এসে বিয়ে করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছায়নি।

















