ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরাইল থানায় ওসির কক্ষে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এই বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে রুমিন ফারহানা জানান, দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে তিনি কোনো নিরাপত্তা পাননি। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ১২ বার ওসিকে ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ওসি আমাকে বলেছেন আমার নিরাপত্তা আমাকেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’
সংসদ সদস্যের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই ওসির সঙ্গে তাঁর এবং তাঁর পিএস-এর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বারবার ফোন করা সত্ত্বেও ওসি সাড়া দেন না। এসব অভিযোগ এবং নিরাপত্তা না পাওয়ার কারণ জানতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে থানায় যান তিনি। সেখানে ওসির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিতণ্ডার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ওসির টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছেন।
একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ তোলেন। জবাবে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে মব সৃষ্টির কথা জানান এবং ভিডিও কলে নেতা-কর্মীদের দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও ওসি কোনো সাড়া দেননি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওসি প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে হাঁটেন তার উদাহরণ দিলে রুমিন ফারহানা ওসির অতীতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মন্তব্য করেন। এছাড়া, সংসদ সদস্য ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের তালিকা নিয়ে আলোচনা করতে চাইলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেন।
মব তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মব সাধারণত থানায় আসামি ছিনিয়ে আনতে যায়। আমি কোনো আসামি ছিনাইনি বা টাকা দাবি করিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে?’
অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া দাবি করেন, সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থির ও বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, ‘পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়া আলাদা বিষয়, কিন্তু ওই সময় তাঁর সঙ্গে একটি দল রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’ ওসি আরও দাবি করেন, সংসদ সদস্য তাঁর ওপর আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা।
থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চা

















