রাজধানীর নিউমার্কেট ও এর আশেপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় পাঁচ হাজার ফুটপাতের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। এই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে, ফুটপাতের কোটি টাকার চাঁদার সাম্রাজ্য মূলত তাদের অনুকূলেই চলে যায়। গত কয়েক দশক ধরে এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দোকানপ্রতি দৈনিক চাঁদা, ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল এবং নতুন দোকান বসানোর জন্য এককালীন অগ্রিমসহ বিভিন্ন নামে এখানে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়। কে এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করবে এবং কারা এই টাকা ভাগ করে নেবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘাতের নেপথ্যে ছিল ফুটপাতের আধিপত্য ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই ঘটনায় ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, তারা নিজেরা বসে সমস্যার সমাধান করবে বলে জানতে পেরেছেন।
নিউমার্কেট এলাকার চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের। বাধা দিলে পুলিশও এখানে টিকে থাকতে পারে না। তার মতে, ফুটপাতে দোকান বসা বন্ধ না হলে চাঁদাবাজি থামানো সম্ভব নয় এবং এর পেছনে সরকারি দলের লোকজন জড়িত। নিউমার্কেট থানার ওসি (অপারেশন) খাইরুল বাশার জানান, ব্যবসায়ীরা থানায় কোনো অভিযোগ না করায় তাদের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সায়েন্স ল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া, নীলক্ষেত মোড়, নিউমার্কেটের ১ থেকে ৪ নম্বর গেট, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশ, কাঁচাবাজার, ঢাকা কলেজ পেট্রোলপাম্প এলাকা এবং বাবুপুরাসহ পুরো এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া এবং ৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকেই এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই চাঁদার ভাগ নেন। বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের লাইনম্যানরা এই টাকা সংগ্রহ করেন। বিগত আওয়ামী লীগ আমলেও এই চাঁদাবাজির ধারা অব্যাহত ছিল এবং অন্তত দুটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই টাকা আদায় করা হয়।

















