বিশ্ব

পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মোদি-অমিতকে ঘুমাতে দেব না: রাহুল গান্ধী

প্রতিবেদক
সব খবর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মোদি ও শাহকে আর স্বস্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। যত দিন না তারা তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তত দিন তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১২ আগস্ট) নয়াদিল্লির মাভলঙ্কর হলে ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের বিদেশনীতি, আরএসএসের ভূমিকা এবং দেশের তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভ ও মতামত তুলে ধরেছে। রাহুল বলেন, এই আন্দোলন দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ আতঙ্কিত হয়েছেন এবং তাদের ঘুম উড়ে গেছে। তার ভাষায়, ‘তাদের আর ঘুমোতে দেওয়া হবে না।’ সরকার ক্ষমতা না ছাড়লে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

অমিত শাহকে নিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, একসময় শাহকে ‘চাণক্য’ এবং বর্তমান সময়ের ‘সর্দার পটেল’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও এখন তিনি কোথায়? তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, প্রায় ২০ দিন ধরে অমিত শাহ সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন। মোদি সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও তিনি সরব ছিলেন। রাহুলের মতে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশনীতি বলতে কেবল অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকেই বোঝেন, কিন্তু সেই সম্পর্কের বাস্তব ফল নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, মোদি যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন, তারাই শেষ পর্যন্ত তাকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিপাকে ফেলছেন। বক্তব্যের সময় কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে জড়িয়ে ধরে রসিকতা করলে অনুষ্ঠানে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়।

আরএসএসের সমালোচনা করে রাহুল বলেন, একসময় এই সংগঠনের সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের যোগাযোগ থাকলেও বর্তমানে তারা বড় পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আরএসএস আদানি ও আম্বানির মতো শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে এবং মোদি সরকারও শিল্পপতিদের সুবিধা দিতে কাজ করছে। এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত চাইলেই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত, কারণ তিন দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগালেও নরেন্দ্র মোদি কেবল অবাক হয়ে তা দেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সব খবর