সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় ওই প্রতারণার মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার দায়ে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির প্রস্তাব দেন এবং ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। মোশাররফ হোসেন বিদিশার মনোনীত বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বাদী অভিযোগ করেন, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দেওয়া ৭২ লাখ টাকার চেকটি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়। মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, বিদিশা টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি, বরং উল্টো তাঁকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।মামলায় বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

















