কোমরের নিচ থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব ও ঊরু পেরিয়ে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই একে সাধারণ কোমরব্যথা মনে করে অবহেলা করেন। তবে ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদের মতে, এ ধরনের ব্যথা কেবল সাধারণ কোনো সমস্যা নয়; এর সঙ্গে মেরুদণ্ডের ডিস্ক, স্নায়ু বা পেশির জটিলতা জড়িত থাকতে পারে। কোমরের নিচের অংশ থেকে পায়ের দিকে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু প্রবাহিত হয়, যা কোনো কারণে চাপে পড়লে বা জ্বালা সৃষ্টি হলে ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই কোমর থেকে পায়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যথাকে সায়াটিকা বলে মনে করেন। তবে এটি সবসময় সায়াটিকা নাও হতে পারে। সায়াটিকার ক্ষেত্রে পায়ে অবশভাব, ঝিনঝিন করা, জ্বালাপোড়া বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। তাই ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি। ব্যথার ধরন অনুযায়ী একে তীব্র, উপতীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী—এই তিন ভাগে ভাগ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। হঠাৎ ভারী কিছু তোলা বা পড়ে যাওয়ার পর তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। আবার কয়েক সপ্তাহ ধরে উপতীব্র ব্যথা কমতে বা বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
এ ধরনের সমস্যায় সাধারণত কাশি বা হাঁচির সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় শারীরিক চাপ, ধূমপান এবং অতিরিক্ত বিএমআই (BMI) কোমরব্যথা ও শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কোমরব্যথার প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মানুষের মধ্যে এর হার সবচেয়ে বেশি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ব্যথার কারণে শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথাকে অবহেলা না করে দ্রুত কারণ চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
কোমরব্যথা যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে WHO-এর তথ্য অনুযায়ী বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপ বাড়ে এবং ৫০-৫৫ বছর বয়সে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যথাজনিত অক্ষমতার প্রভাবও বেশি হতে পারে।

















