ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসযোগ্যতা নিয়ে তাদের নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। মোট ১৭৩টি শহরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, যা গত বছরের তুলনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। মূলত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ বিদেশে কর্মরত কর্মীদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য এই সূচক ব্যবহার করে থাকে। শহরগুলোর অবস্থান মূল্যায়নে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশ—এই পাঁচটি প্রধান সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।
তালিকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন, যার স্কোর ৯৮। এর পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। শীর্ষ দশের তালিকায় উত্তর আমেরিকা থেকে কেবল কানাডার ভ্যাঙ্কুভার নবম স্থানে জায়গা পেয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বড় মহানগরগুলোর মধ্যে একমাত্র জাপানের টোকিও দশম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জনঘনত্ব, যানজট এবং অপরাধের মতো বিষয়গুলোর কারণে বড় শহরগুলোর বাসযোগ্যতার স্কোর সাধারণত কমে যায়।
তালিকায় একেবারে শেষ অবস্থানে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক, যার স্কোর ৩১ দশমিক ৬। ২০১৩ সাল থেকে শহরটি ধারাবাহিকভাবে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। দামেস্কের ঠিক উপরে ১৭২তম স্থানে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি। ৪১ দশমিক ৭ স্কোর নিয়ে ১৭১তম অবস্থানে থাকা ঢাকার ঠিক উপরে ১৭০তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি শহরের অবস্থান অবনতি হয়েছে। ইরানি ড্রোন হামলার প্রভাবের পর ওমানের মাস্কাট ১৪ ধাপ পিছিয়ে ১২৩তম স্থানে নেমে এসেছে। এছাড়া কাতার, দুবাই ও আবুধাবির অবস্থানও আগের চেয়ে নিচে নেমেছে। অন্যদিকে, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে চীনের শহরগুলো স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলেও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, কঠোর নজরদারি এবং গণতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রত্যাশিত উন্নতি করতে পারেনি। চীন এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে যাতে নাগরিকরা ১৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বের মধ্যেই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পান।

















