জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা এর যথাযথ জবাব দেবেন এবং ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, একটি ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে মার্কিন বাহিনী নিশ্চিত ছিল যে সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত করবে না, তাই সেটিকে আকাশসীমা দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছিল যে, তারা জর্ডানের কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত আল মিনহাদ ঘাঁটিতে হামলার খবরটিকে ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা একটি ড্রোন তাদের আকাশসীমার বাইরে আঞ্চলিক জলসীমার ওপর ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
ইরানের এই হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন স্থাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লঞ্চারগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল, তাই জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও মার্কিন সেনা অবস্থানরত এলাকায় হামলা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি করলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তা এখনো নিশ্চিত করেনি। এছাড়া ট্রাম্পের পোস্ট করা একটি ভিডিও এআই-নির্মিত বলেও চিহ্নিত হয়েছে। নতুন করে এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

















