আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন বা আদৌ কেউ অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিশেষ করে তারেক রহমান বা তাঁর কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত এখনো অবগত নয়।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গণ-আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী সময়ে ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফেরেন। ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৯ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হতে হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তিনি কানে আঘাত পান এবং তাঁর দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে শান্তি, গণতন্ত্র এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার এবং জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান সজীব আহমেদ ওয়াজেদ ও সায়মা হোসেন ওয়াজেদ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর এই প্রস্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।

















