কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের পর অস্বাভাবিক দ্রুততায় দেহ দাহ করার অভিযোগে সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার খড়দহ থানায় নির্মল ঘোষ সহ তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিলেন মৃত চিকিৎসকের বাবা। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ, নির্যাতিতার মৃত্যুর পর পরিবারের অনুমতি ছাড়াই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দেহ স্থানীয় পানিহাটির শ্মশানে দাহ করা হয়েছিল। এই কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নির্মল ঘোষ, মৃতার বাড়ির এলাকার পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তিনজনই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তবে পুলিশ নির্মলের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য একজনের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
নির্যাতিতা চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় শ্মশানঘাটে শেষকৃত্যের সময় তাড়াহুড়ো করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। নির্মল সহ এই তিন জন কী কারণে দেহ সৎকার করতে এত সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মৃতার বাবা-মা। এমনকি শ্মশানে দাহকার্যের খরচও মকুব করা হয়েছিল। এই সব বিষয় নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, নতুন মামলায় ওই নারী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে সৎকারের ব্যাপারে যুক্ত থাকা চিকিৎসক, নার্স, শ্মশানঘাট কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের অবিলম্বে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আর সেই কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নির্মল ঘোষ, মৃতার বাড়ির এলাকার পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।আরজিকরের ধর্ষিত এবং খুন হওয়া চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর দিন রোববার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

















