মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাদের অ্যাকাউন্টের স্টোরেজ ব্যবহারের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যাকআপে সংরক্ষিত সব ডেটা ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্টের নির্ধারিত মোট স্টোরেজ সীমার মধ্যে গণনা করা হবে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের তথ্যমতে, গত ৭ জুলাই থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর হয়েছে।
এর আগে গুগলের নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র গুগল ফটোস-এ সংরক্ষিত ছবি ও ভিডিও এবং এমএমএস-এর মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন মিডিয়া ফাইল স্টোরেজ সীমার আওতাভুক্ত ছিল। অ্যান্ড্রয়েড ব্যাকআপের অন্যান্য তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষিত হতো। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে এখন অ্যান্ড্রয়েড ব্যাকআপে থাকা সব ধরনের তথ্যই মোট স্টোরেজের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে এবং বর্তমান ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এটি চালু করা হবে।
গুগলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রয়েড ব্যাকআপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করতে পারেন, যা নতুন ডিভাইস সেটআপ বা পুরোনো ডেটা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। কোম্পানির ধারণা অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে গড়ে একজন ব্যবহারকারীর স্টোরেজে মাত্র ৪০ মেগাবাইট অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহৃত হবে।
এই পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যাকআপ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে গুগল নতুন কিছু নিয়ন্ত্রণ সুবিধা যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন কোন ডেটা ব্যাকআপে রাখা হবে। নতুন ফিচারের মাধ্যমে চাইলে ডিভাইসের সেটিংস, কল হিস্টোরি, এসএমএস এবং এমএমএস বার্তা ব্যাকআপ থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের ডেটা ব্যাকআপে রাখা হবে কি না, তাও আগের মতো অন বা অফ অপশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এসব সুবিধা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যাকআপ মেনুতেই পাওয়া যাবে।
গুগলের স্টোরেজ নীতিতে এটি সাম্প্রতিক সময়ের দ্বিতীয় বড় পরিবর্তন। এর আগে মে মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের জন্য বিনামূল্যের স্টোরেজ সুবিধা নিয়ে পরীক্ষামূলক পরিবর্তন শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেই পরীক্ষার আওতায়, ব্যবহারকারী যদি তার ফোন নম্বর অ্যাকাউন্টে যুক্ত না করেন, তবে বিনামূল্যের স্টোরেজ সীমা ১৫ গিগাবাইট থেকে কমিয়ে ৫ গিগাবাইট করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে গুগল একদিকে স্টোরেজ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে চাইছে, অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের ব্যাকআপ ডেটা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিচ্ছে।

















