জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কিডনি কেনাবেচা চক্রের প্রধান হোতা আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করেছে কালাই থানা পুলিশ। বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানার পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। ৫৪ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে কিডনি কেনাবেচা সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার খুকশিয়া গ্রামের আব্দুল কাফির ছেলে মন্টু মিয়া গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি ৫ নম্বর আদালতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কালাই থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আর্থিক সংকটে থাকা মন্টু মিয়াকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে রাজি করানো হয়। এরপর তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নেপালে নিয়ে মেরি সিটি হসপিটালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। বাংলাদেশে ফেরার পর বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে আসামিরা নানা টালবাহানা শুরু করে।
কালাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে উৎসাহিত করে আসছে। স্থানীয়ভাবে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত গ্রামগুলোর মধ্যে মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, বিনইল ও পূর্বকৃষ্টপুর এবং আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রাম অন্যতম।
উল্লেখ্য যে, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারা অনুযায়ী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই আইনের ১০(১) ধারায় এই ধরনের কাজে জড়িত থাকা বা সহায়তার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। এই ধারাবাহিকতায় আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিডনি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

















