পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি মহানবী (সা.)-এর বিশেষ অনুরাগ ছিল এবং তিনি সবসময় দুর্গন্ধের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতেন। ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের মতো মুখের পরিচ্ছন্নতাও তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ ছিল। তিনি রাতে ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মিসওয়াক করতেন, যাতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ঘুমের জড়তা কাটিয়ে কর্মস্পৃহা ফিরে আসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) রাতে বা দিনে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগেই মিসওয়াক করতেন। এমনকি জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমেও তিনি মিসওয়াকের নির্দেশ পেয়েছেন। মুসনাদ আহমদের বর্ণনায় এসেছে, জিবরাইল (আ.) যখনই আসতেন, মিসওয়াকের তাগিদ দিতেন। নবী (সা.) মিসওয়াকের মাধ্যমে সচেতনতা ও কর্মোদ্যম অনুভব করতেন, যা বোখারি শরিফের হাদিসেও প্রমাণিত।
মিসওয়াক করে ইবাদতের ফজিলত অনেক বেশি। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মিসওয়াকের পর দুই রাকাত নামাজ মিসওয়াকের আগের দুই রাকাতের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি উত্তম।’ (শুয়াবুল ইমান লিলবায়হাকি : ২৫২০)।
মিসওয়াক করার পদ্ধতি সম্পর্কেও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে আহমদ ইবনে আবদাহ (রহ.) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলাম, তখন তিনি মিসওয়াক করছিলেন। মিসওয়াকের এক পাশ তার জিহ্বার ওপর ছিল এবং ‘আ’ ‘আ’ করছিলেন।’ (নাসায়ি : ১/৩)। আলেমরা এই হাদিসের আলোকে বলেন, মিসওয়াক নিজের হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব। এটি ব্যবহার করা আবশ্যক নয় তবে সুন্নাত। মিসওয়াক করার সুন্নত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক ধরা এবং ডান দিক থেকে শুরু করা। দাঁতের ক্ষেত্রে প্রস্থে এবং জিহ্বার ক্ষেত্রে লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা সুন্নাতসম্মত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখনই জিবরাইল (আ.) আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এতে আমি আশঙ্কাবোধ করলাম যে (মিসওয়াক করে) আমি আমার মুখের সম্মুখ দিক ক্ষয় করে দেব।’ (মুসনাদ আহমদ : ২২২৬৯)।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) রাতে বা দিনে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন তখনই অজু করার আগে মিসওয়াক করতেন।’ (আবু দাউদ, মিশকাত : ৩৫২)।

















