নামাজে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম কার্যকরী উপায় হলো একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদত করা। এই একাগ্রতা অর্জনের একটি প্রধান মাধ্যম হলো নামাজের সময় চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় দৃষ্টি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা বাঞ্ছনীয়। নাসায়ির ১১৬০ ও ১২৭৫ নম্বর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানো ও রুকু অবস্থায় সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন এবং বসা অবস্থায় শাহাদাত আঙুলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেন।
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন মাথা নিচু করে জমিনের দিকে দৃষ্টি রাখতেন (মুসতাদরাকে হাকেম: ১/৪৭৯)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নামাজের বিভিন্ন অবস্থানে দৃষ্টির স্থান ভিন্ন হয়। তিনি কিতাবুল মাবসুত (১/২৮)-এ উল্লেখ করেছেন, দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সেজদার দিকে, রুকুতে দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় কোলের দিকে এবং সেজদা অবস্থায় নাকের দিকে রাখা উচিত। তবে কিছু ইমামের মতে, পুরো নামাজের সময় দৃষ্টি সেজদার দিকে রাখাই উত্তম।
নামাজের একাগ্রতা নষ্ট করে এমন কোনো কাজ করা বা এদিক-সেদিক তাকানো অনুচিত। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত বোখারি শরিফের ৭১৮ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো শয়তানের ছোঁ মারা বা ধোঁকা, যা বান্দাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে দেয়। তবে যদি অনিচ্ছাবশত কারো দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে যায়, তবে তার নামাজ ভঙ্গ হবে না (আদ দুররুল মুখতার: ১/৪৪৭)।
নামাজের মধ্যে চোখ বন্ধ রাখা মাকরুহ। আল্লামা ইবনে হুমাম (রহ.) বাদায়েউস সানায়ে (১/২১৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। কারণ, সেজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে নামাজ পড়া সুন্নাত, আর চোখ বন্ধ রাখলে এই সুন্নাত পালন করা সম্ভব হয় না।

















