প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি মামলা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এই কাজের জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় দল গঠন এবং ইসরাইলি বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে আইনি নথিপত্র তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন। এরদোয়ানের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করা এই মামলায় মূলত তুরস্কের কুর্দি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দেশটির সরকারের আচরণ এবং হামাসের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ও কথিত অর্থায়নের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মামলাটি বাস্তবে দায়ের করার চেয়ে এর প্রস্তুতিকে এরদোয়ানের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকতে পারে। ইসরাইল চাইলে বিষয়টি হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তুলতে পারে, তবে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে মামলাটি আদালতে তোলার সম্ভাবনা বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণের পরপরই এই খবরটি সামনে এল। সেই ভাষণে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এর জবাবে তুরস্কের একজন কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে ‘হতাশাপূর্ণ ও অন্তঃসারশূন্য প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর, লেবানন ও সিরিয়ায় চলমান হামলা আড়াল করতেই এসব কথা বলা হচ্ছে।
এর আগে তুরস্কের পক্ষ থেকেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগস্ট মাসে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছিলেন, গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি হস্তক্ষেপের ঘটনায় নেতানিয়াহুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, যা ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করেছে।

















