আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে নতুন করে হামলার ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৪৫ ডলার বা ১.৬৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.৫২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১.১৫ ডলার বা ১.৪২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২.৪০ ডলারে। সাপ্তাহিক হিসাব অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৫.৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে।
তেলের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু লিপোর মতে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় সীমিত থাকলে বিশ্ববাজারে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ মূলত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং ট্যাঙ্কার চলাচলের স্বাভাবিকতার ওপর নির্ভর করছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

















