গাজীপুর সাফারি পার্কে দুটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একটি হাতি অন্য হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছে, অন্যটি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আজ বুধবার দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান দুটি হাতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ‘রাজা বাহাদুর’ নামের একটি হাতিকে পার্কের হাতিশালায় মৃত অবস্থায় দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ৬ আগস্ট রাতে অপর একটি হাতির মৃত্যু হয়েছিল।
পার্কের কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী হাতি ‘রাজু বাহাদুর’-এর ওপর হামলা করে ৪ বছর বয়সী হাতি ‘জয়িতা’। এতে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। হাতির চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়। শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ৭ আগস্ট হাতিটির মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৬ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্কের অপর একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। দুটি হাতির মৃত্যুর পর দেহের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পার্কের ভেতরে মাটি চাপা দেওয়া হয়। বর্তমানে সাফারি পার্কে হাতির সংখ্যা ৮টি।
উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে রাজা বাহাদুরকে উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে হস্তান্তর করেছিল। তখন রাজু বাহাদুরের বয়স ছিল ৯ বছর। গত ২৪ মে হাতিশালায় শেকলে বাঁধা থাকা অবস্থায় জয়িতা নামের অন্য একটি হাতি রাজু বাহাদুরের ওপর হামলা করে, এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। ঘটনার পর থেকে হাতিটিকে ক্রেন এনে তুলে বালির ওপর রাখা হয়। রাজা বাহাদুরের অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদল আনা হয় এবং শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদলের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়। দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একাধিক মেডিকেল বোর্ডের নিয়মিত পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে রাজু বাহাদুরের চিকিৎসা চলে। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত শুক্রবার সকালে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা।

















