বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিমের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে টঙ্গী নৌ-পুলিশ।
ঘটনার দিন ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দীপের ফোনেই তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই রাতে তাহসিফ ও দীপ উত্তরা ও টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে ছিলেন। রাত ৮টা ৫৪ মিনিটে উত্তরার কুকরুকু রেস্টুরেন্টে তারা খাবার খেয়েছেন এবং পরে তাহসিফের বান্ধবী তাবাসসুমের সঙ্গে দেখা করেন। রাত ১০টা ১৭ মিনিটে সোনারগাঁ জনপথের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের সামনে তাদের দেখা যায়। সেখানে দীপ হেলমেট পরে মুখ ঢেকে বারে প্রবেশ করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাত ১২টা ১৭ মিনিটে দীপসহ ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে টঙ্গী মাজার বস্তির দিকে প্রবেশ করেন। এরপর রাত ১টার দিকে মাজার গেটের সামনে তাহসিফ ও দীপকে আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দেখা যায়। রাত ১টা ২০ মিনিটে দীপকে মাঠ থেকে একা বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, যার কোমরে একটি কালো ব্যাগ ছিল। এরপরই রহস্যজনকভাবে কয়েকজনকে অটোরিকশা ও পায়ে হেঁটে দীপের পিছু নিতে দেখা যায়।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, দীপ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে তাহসিফের সঙ্গে তিনি একাই ছিলেন। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে আরও কয়েকজনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটিও তাহসিফের নামেই কেনা ছিল।
২৮শে অক্টোবর বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান এলাকা থেকে তুরাগ নদে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম তার ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন। ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দায়ের করা এই মামলাটি নৌ-পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

















