বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধের মতো দৈনন্দিন ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে নতুন ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এই ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য নির্ধারণ করতে পারবে।
খসড়া নীতিমালার প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সেবামূল্যের হার নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে: ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা, ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা, ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা এবং ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৫ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে। এছাড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য ৩৫ টাকা এবং ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য ধার্য করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো ধরনের সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না এবং ঋণ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
নতুন এই ব্যবস্থায় ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। গ্রাহককে ঋণের জন্য ব্যাংকের শাখায় সশরীরে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া কাগজের নথিপত্রে স্বাক্ষরের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতির মাধ্যমে এই ঋণ প্রদান করা হবে।
বর্তমানে এই খসড়া নীতিমালার ওপর জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মতামত ও পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করার পরই চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে এবং এরপরই এই ডিজিটাল ঋণ সুবিধা কার্যকর করা হবে।

















