এখন থেকে টোয়াবের সদস্য ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনা আরও সহজ হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন দেশীয় মুদ্রায় এই প্যাকেজগুলো ক্রয় করতে পারবেন। একই সঙ্গে, প্যাকেজের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিদেশি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই সুবিধাটি কেবল সেই সব ট্যুর অপারেটররা পাবেন, যাদের বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি বা সমঝোতা রয়েছে। অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলো আবাসন ও পরিবহণসহ বিদেশে ভ্রমণসংক্রান্ত প্রকৃত সেবার বিপরীতে এই বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
নতুন এই নিয়মে একজন ভ্রমণকারী তার নিয়মিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বাইরে প্রতি পঞ্জিকা বছরে সর্বোচ্চ তিন হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সুযোগ পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটরদের অবশ্যই ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি, অন্য কোনো অপারেটরের মাধ্যমে নির্ধারিত বার্ষিক সীমা অতিক্রম করা হয়নি—এমন মর্মে ভ্রমণকারীর কাছ থেকে একটি ঘোষণাপত্রও নিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে তিন হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্যাকেজের মূল্য আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে এডি ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবা প্রদান করতে পারবে।
প্রতিটি বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সময় এডি ব্যাংকগুলোকে ইনভয়েস, চুক্তি, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি, ভ্রমণকারীদের তালিকা এবং টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে। এছাড়া মুদ্রা প্রেরণের সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ লেনদেনকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে। তাদের প্রত্যাশা, এটি বিদেশে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি ট্যুর অপারেটিং ব্যবসার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

















