প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩০। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও প্রায় দেড় হাজার চাকরিপ্রত্যাশী নিয়োগপত্র পাননি। দীর্ঘ আট মাস অপেক্ষার পর ভেরিফিকেশনে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়ায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগবঞ্চিতরা বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ, পুনঃযাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চেয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে শনিবার সচিবালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়োগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বঞ্চিতদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী নিজেও জানিয়েছেন যে, যারা নিয়োগপত্র পাননি তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সভায় সচিব জেসমিন নাহারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে কতজন বাদ পড়েছেন, তার সরকারি তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’-এর দাবি অনুযায়ী, এ সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। ভোলায় ২৫৬ জন সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ৮৪ জন নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন—এমন দাবি করে তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সুনামগঞ্জেও ৬৩৫ জন সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ১২০ জন নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। চাঁদপুরের তামান্না এবং পিরোজপুরের জাহিদ হাসানের মতো প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও ‘পলিটিক্যাল ট্যাগ’ দিয়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচিতদের নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। এতে পুলিশ ও এনএসআই ভেরিফিকেশনে বিরূপ প্রতিবেদন থাকলে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। এর প্রেক্ষিতেই মূলত এই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মেধাকে সম্মান দিতে হবে এবং ফ্যাসিবাদী আমলের ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পরিত্যাগ করতে হবে। এছাড়া সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অন্তত ১,০০০ তরুণ বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মতো সংগঠনগুলোও নিয়োগে বৈষম্যের প্রতিবাদে রাজপথে কর্মসূচি পালন করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। এর আগে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এখন মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।

















